বৈধভাবে কিছু করতে গেলে যেখানে নজরানা না-দিয়ে অগ্রসর হওয়া যায় না, অথবা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকাল অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়, সেখানে, উদ্যোক্তারা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে কিছু করতে চাইলে ‘আপাত-অবৈধ’ পথে স্বেচ্ছাচালিত না-হ’য়ে উপায় থাকে না ; তাই বৈধ-অনুমোদন ছাড়াই স্বাগতিক উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদন বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে শুরু করে।
বেশিরভাগ উদ্যোক্তার কর্মকাণ্ড পারিপার্শিক ধকল সহ্য করতে ব্যর্থ হ’য়ে গোড়াতেই মচকে যায়। যারা উঠে প’ড়ে লেগে থাকে, -তারা যখনি লাভজনক অবস্থায় পৌঁছায়, -পরিদর্শকেরা আকৃষ্ট হন। আকর্ষণীয় লাভজনক প্রতিষ্ঠান বা উৎপাদনক্ষেত্রকে বৈধ-অনুমোদন ছাড়াই উন্নতির দিকে গতিময় রাখা হ’লে প্রচলিত বিধান অপদস্থ হয়।
সফলতায় পৌঁছানোর পথে প্রচলিত বৈধ ধারা-উপধারাকে কতখানি অবজ্ঞা বা উপেক্ষা করা হয়েছে, -সেই তদন্তে ব্যস্ত হন পরিদর্শকমণ্ডলী।
প্রচলিত বিধান অনুসারে ‘অনুমোদন প্রাধিকারী’ পর্যন্ত পৌঁছাতে ধাপে ধাপে ধাপ-পারানি খরচা না-ক’রে কেবল ভোক্তাসাধারণকে সন্তুষ্ট ক’রে ক’রে টিকে থাকা উদ্যোগগুলোকে আপসে ছেড়ে দিলে সংবিধান চলে না। তাই, নীতিমালা নিয়ে উদ্যোক্তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে ব্যস্ত হন পরিদর্শকমণ্ডলী। সার্বিক গুণগতমান নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হ’লে পরিদর্শকমণ্ডলীর সুপারিশে, -উদ্যোগগুলো প্রাধিকারীর অনুমোদন লাভ করে।
ভোক্তাসাধারণ যেখানে নিজেদের মধ্যে কোন্দলে মত্ত হন, এবং যেকোনো উদ্যোগের গুণগতমান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সমস্তটাই পরিদর্শকের দখলে ছেড়ে দেন, সেখানে বেতনভোগী সুপারিশকারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বঘোষিত প্রশাসক সাজেন এবং গুণগতমান নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটি অনেকাংশে নজরানা-সাপেক্ষ বা উৎকোচ-নির্ভর হ’য়ে যায়।
যেকোনো উপায়ে নথিপত্র সাজিয়ে ধাপে ধাপে সুপারিশ-এর কোঠা পূরণ হ’লেই অনুমোদন প্রাধিকারী বাধ্য হন উদ্যোগগুলোকে অনুমোদন দিতে।
অস্থায়ীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত, মেয়াদে মেয়াদে নির্বাচিত অনুমোদন প্রাধিকারীরা যথার্থ কৃতজ্ঞতার প্রকাশে, --ভোক্তাসাধারণকেই মহাক্ষমতাধারী ব’লে ব’লে পরিষদে এবং মুক্তাঙ্গনে সাধারণ সমাবেশে স্বীকার করেন। প্রাধিকারী প্রতিনিধিরা চান, ভোক্তা-সাধারণের অধিকার-সচেতনতা,- যাতে,-অযোগ্য উদ্যোক্তাদেরকে সসম্মানে ‘পরিত্যাগ’ করার ক্ষমতা ভোক্তাসাধারণ সম্মিলিতভাবে প্রয়োগ করতে পারেন।
যেমন ‘পরিত্যাগে’, -তেমনি ‘গ্রহণের ক্ষেত্রে’ও, নিরপেক্ষ অবস্থানে সম্মিলিত ভোক্তাসাধারণের ‘চাওয়া’-কেই সংবিধানে সকল ক্ষমতার কেন্দ্রে রাখা হয়। -কিন্তু ! -যখন, ভোক্তাসাধারণ ‘নিজেদের ক্ষমতা’কে অসম্মান অথবা অবজ্ঞা ক’রে ক’রে পরস্পরকে বিচ্ছিন্ন করার মতো অসহনশীলতায় লিপ্ত হয়,-- তখন ভোক্তা দিয়ে ভোক্তা ঠেকিয়ে,- পরিদর্শককে নজরানা দিয়ে দিয়ে অযোগ্য উদ্যোক্তারাও দাপটে টিকে থাকে ; উদ্যোগগুলোর গুণগতমান যথাযথ বিচারের আওতায় আসে না।
বৈধভাবে কিছু করতে গেলে যেখানে উৎকোচ ছাড়া অগ্রসর হওয়া যায় না,-অথবা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকাল অনিশ্চিতের মধ্যে থাকতে হয়,--সেখানে,- উদ্যোক্তারা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে কিছু করতে চাইলে,-স্বেচ্ছাচারী না-হ’য়ে উপায় থাকে না।
রঙ্গপুর - ০২/০২/২০০৩ খ্রি: